ডিভোর্সি বা বহুগামী নারী ভার্জিন হয়? -সায়ানোব্যাক্টেরিয়া থেকে সাইবারসেক্স

ডিভোর্সি বা বহুগামী নারী ভার্জিন হয়? হ্যাঁ হয়! আমাদের সমাজে একটি কমন মিসকনসেপশন আছে, একজন নারীর যোনি যত টাইট, তার মাঝে ফিলিংস তত গভীর। আসলে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে অধিকাংশ পুরুষ সারাজীবন একটি টাইট ভ্যাজাইনা নিয়েই স্বপ্ন দেখে। তারা মনে করে, একটি টাইট ভ্যাজাইনা কুমারিত্বের প্রকাশ। একজন নারীর ভ্যাজাইনা যদি ল্যুজ হয়, পুরুষ তাকে অনেক সময় ক্রিটিসাইজ করে “সমুদ্র” ডাকে। তাদের মতে, একজন নারী যদি বিয়ের পূর্বে অসংখ্য পুরুষের সাথে সেক্স করে,তবেই তার ভ্যাজাইনার টাইটনেস নষ্ট হয়ে যায়। 

আমাদের সমাজে আরও একটি মিসকনসপেশন আছে, সন্তান জন্ম দেয়ার পর নারীর ভ্যাজাইনা পার্ম্যানেন্টলি ঢিলা হয়ে যায়। তারা এটাকে বলে “চিরস্থায়ী সমুদ্র”। বাংলাদেশের অনেক পুরুষকেই আমি বলতে শুনেছি, ডিভোর্সি নারীর যোনি একটি “সমুদ্র”। এখানে কেবল জাহাজ প্রবেশ করবে ও বের হবে কিন্তু কোনো ঝড় নেই। তুমি যতই কর, তোমার মনে হবে, তুমি কিছুই করছ না। তাদের যুক্তি হাস্যকরভাবে এমন যে, একটি আইফোন টাচ স্ক্রিনের সেনসেটিভিটি মোবাইলটির সাইজের ওপর ডিপেন্ড করে। আমার বন্ধু সার্কেলের মধ্যে অনেক ছেলেকে বিশ্রিভাবে বলতে শুনেছি, তোর প্রাক্তন তো বিয়ের পর সাগর হয়ে গেছে! 

কিন্তু আপনার শুনলে কেমন লাগবে, একজন নারী ৫০ জন পুরুষের সাথে সেক্স করার পরও ভার্জিন হতে পারে? আপনার শুনলে কেমন লাগবে একজন ডিভোর্সি নারীও অ্যানাটমিক্যালি ভার্জিন হতে পারে? আপনি কী বিশ্বাস করবেন, একজন সন্তান জন্ম দেয়ার পরও একজন নারীর যোনি টাইট হতে পারে? 

আমাদের সমাজে ভার্জিনিটি নির্ধারণ করা হয় সতিচ্ছদ এবং যোনির দৃঢ়তার ওপর। আমরা ভাবি, একজন নারীর সতিচ্ছদ হলে অথবা তার যোনি ঢিলা হয়ে গেলে, সে তার ভার্জিনিটি হারায়। কিন্তু গবেষণা আমাদের দেখিয়েছে, পৃথিবীতে অসংখ্য নারী আছে, যারা একাধিক পুরুষের সাথে সেক্স করার পরও, তার হাইমেন বা সতিচ্ছদ নষ্ট হয় না আবার জন্মগতভাবেই কারও কারও হাইমেন নেই। 

আর একজন ডিভোর্সি মহিলার যোনি একজন টিনএজের মতোই টাইট হতে পারে! এখন প্রশ্ন হলো, আপনি নিজের অজান্তে একজন ডিভোর্সি নারীর সাথে সেক্স করার পর, যদি আবিষ্কার করেন তার যোনি একদম সতেজ আপনি কী তাকে অবিবাহিত ও পবিত্র ভেবে কনফিউজড হবেন? 

আবার আপনি যদি আবিষ্কার করেন, একজন ভার্জিন নারীর যোনি ঢিলা ও সতিচ্ছদ ফাটা, আপনি কী তাকে বহুগামী বলে তিরস্কার করবেন? গবেষণা দেখিয়েছে, একজন টিনএজ নারীর যোনিও সমুদ্র (ঢিলা) হতে পারে। সে যদি একজন পুরুষের সাথেও সেক্স না করে তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। 

ভ্যাজাইনা খুবই ফ্ল্যাক্সিবল ও ইলাস্টিক একটি অর্গ্যান। এটি অনেকটা স্প্রিং-এর মতো। এটাকে টেনে অনেক লম্বা করা যায় কিন্তু সেটা সবশেষে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। যোনি ইলাস্টিক হওয়ায় এটি ভিন্ন ভিন্ন অবজেক্ট সমন্বয় করতে পারে যেমন: বিভিন্ন আকারের আকারের পেনিস, মেডিক্যাল ডিভাইস, সেক্স টয় এবং এমনকি প্রেগন্যান্সির সময় একটি বিশাল সন্তানের মাথা। কিন্তু যোনি স্প্রিং এর মতো ইলাস্টিক প্রকৃতির হওয়ার কারণে এটি একটা নির্দিষ্ট সময় পর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। 

আর এভাবে একজন তিন সন্তানের মা'ও ভার্জিন হতে পারে। একজন নারী অসংখ্য পুরুষের সাথে সেক্স করার পরও, তার যোনির ইলাস্টিক প্রকৃতির কারণে সে বারবার ভার্জিনিটি অথবা কুমারিত্ব লাভ করতে পারে। এটাকে বলা যায় “সেলফ ভার্জিন প্রসেস”। আবার জেনেটিক ফ্যাক্টর, হর্মোনাল পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত ভিন্নতার কারণে একজন টিনএজারের যোনিও একজন বিবাহিত নারীর তুলনায় ঢিলা হতে পারে! এ থেকে প্রমাণিত হয়, একটি যোনির টাইটনেস বয়সের ওপর নির্ভর করে না, আপনি কতজন পুরুষের সাথে সেক্স করেছেন, সেটার ওপর ভার্জিনিটি নির্ভর করছে না। ভার্জিনিটি ন্যাচারাল। পৃথিবীর সকল নারীই জীবনের বিভিন্ন সময় পুনঃপুন ভার্জিন হয়! নারীর যোনির টাইটনেস কীভাবে প্রভাবিত হয় সেটা বোঝার জন্য আপনাকে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে: 

ইলাস্টিসিটি: 

সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্সের সময় নারীর যোনি ইলাস্টিক ও ফ্ল্যাক্সিবল হয়ে যায়, যা সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্সের সময় আরামদায়ক পেনিট্রেশনের নেতৃত্ব দেয়। এ সময় নারীর যোনি, বিভিন্ন আকারের পেনিস ও অবজেক্ট নিতে পারে। নারী যোনি ন্যাচারালি সেক্সের সময় ঢিলা হয়ে যায়। তার অর্থ এই নয় যে, সে বহুগামী। আর একজন নারী বহুগামী হলেই যে, তার যোনি ঢিলা হবে, এমনটিও ঠিক নয়। তাই ইলাস্টিসিটি দিয়ে একগামিতা অথবা বহুগামিতা মাপা যায় না। 

লুব্রিকেশন: 

একজন ব্যক্তি যখন সেক্সচুয়ালি জাগ্রত হয়, তখন এটি প্রাকৃতিকভাবেই লুব্রিকেট হয়ে ওঠে। এটি আমাদের ইন্টারকোর্সকে আরামদায়ক করে এবং সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঝুঁকি হ্রাস করে। একজন নারীর যোনিতে রক্তপাত বা পেইন হয়নি বলে, সে বহুগামী এমনটি বলা একদম ঠিক নয় কারণ লুব্রিকেশন সকল নারীর যোনিতেই থাকে, বিভিন্ন মাত্রায়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই যোনিকে রক্তপাত মুক্ত করার জন্য লুব্রিকেট করছে, সেখানে আপনি প্রেমিকার যোনিতে রক্ত না দেখে তাকে ডিভোর্স করে দিচ্ছেন, তাকে বহুগামী উপাধি দিচ্ছেন! এটা খুবই হাস্যকর। রক্তপাত হয় পর্যাপ্ত লুব্রিকেশনের অভাব অথবা অন্য কোনো ইনফেকশনের কারণে, এটি একটি অসুস্থ্যতা। অসুস্থ্যতা দেখে আনন্দ পায় কেবল যৌনতা সম্পর্কে অজ্ঞান ও অসুস্থ্য প্রকৃতির মানুষ, কোনো বুদ্ধিমান ও সুবিবেচক মানুষ নয়। 

হিলিং অ্যান্ড রিকভারী:

সন্তান জন্মের পর, একজন নারীর মধ্যে হিলিং ও রিকভারী প্রসেস কাজ করে। যোনির পেশি ও টিস্যু পুনরায় তার দৃঢ়তা ও নমনীয়তা অর্জন করে। যে সকল নারী ইয়োগা করে যেমন পেলভিক ফ্লোর মাশলের নিয়মিত ব্যায়াম যেটাকে “কেগেল এক্সারসাইজ” বলে তাদের যোনি ন্যাচারালি টাইট হয়। সন্তান জন্মের পর একজন নারী “Kegel exercises” করার মাধ্যমে তার পেলভিক ফ্লোরের দৃঢ়তা ফিরিয়ে আনতে পারে। 

যাই হোক! এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন নারীর যোনি ধ্রুব কোনো অবস্থায় থাকে না, নারীর যোনির সাইজ অ্যাবসলিউট নয়। এক এক বয়সে নারীর যোনির দৃঢ়তা এক একরকম হয়। তবে একজন নারীর মধ্যে সেলফ ভার্জিন একটি প্রসেস আছে, যেটি সেক্স ও সন্তান জন্মদানের পর, যোনিকে প্রি-বার্থ পরিস্থিতিতে রিভার্স করতে পারে। এটা অনেকটা এমন যে, যোনি অতীত ভ্রমণ করতে পারে (উপমা)! এছাড়া, একটি যোনি সেলফ ক্লিনিং, যোনির ইকোসিস্টেমে মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যাক্টেরিয়া। একটি যোনি নিজেই নিজেকে ক্লিন করে ফেলে। আর তাই অতীতে একজন নারী যত পুরুষের সাথেই সেক্স করুক না কেন, তার যোনিতে সেই সকল রেকর্ড থাকবে__এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সামগ্রিকভাবে বলেল, সামাজিকভাবে প্রচলিত ভার্জিনিটির ডেফিনিশন একটি মিথ, বহুগামিতা করলে ভার্জিনিটি নষ্ট হয়__এটিও মিথ। 

নারীদের সম্পর্কে অসংখ্য মিসকনসেপশন ডিভাংক করা হয়েছে "সায়ানোব্যাক্টেরিয়া থেকে সাইবারসেক্স বইতে"। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Stay tuned to the Telegram channel to be the first to get more such videos
এরকম আরো ভিডিও সবার আগে পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাথেই থাকুন।
Website: https://www.xnxxvideos.xyz/